‎Tapas Ghoshal‎ to Kolkata - Tilottama
27 December 2018 at 10:46 PM

“”প্রত্যন্ত গ্রামে স্বাস্থ্য সচেতনতার পাঠ দেবেন বাংলার প্যাডম্যানেরা””


বর্ষবরণের প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে এই ব্যতিক্রমী ভাবনার জন্য তরুণ দলকে অভিনন্দন। শুধু শীতবস্ত্র বিলিতেই সমাজসেবা সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামের মহিলাদের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করে তাঁরা বিচক্ষণতার পরিচয় দিলেন। এই উদ্যোগ রাজ্যের অন্যান্য জেলার কাছেও দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক।


সামনেই নতুন বছরের হাতছানি। রয়েছে বর্ষশেষের আয়োজন। সব বয়সিই আছেন ভিড়ে। কিন্তু সপ্তর্ষি, অর্কেন্দু, দেবাঞ্জনা, শতাক্ষী, শৌনক, অভ্রজ্যোতি, অলকেন্দু, অলকানন্দাদের কাছে এই উদ্‌যাপন একটু অন্য রকম। ওদের চ্যালেঞ্জ ‘কার তাতে কী, আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি?’ আর তাই বালি, বেলুড়, উত্তরপাড়া ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকার বাসিন্দা হয়েও সবাই একজোট হয়েছেন এক মহৎ প্রচেষ্টার সঙ্গে।


কী সেটা? পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম খাটুন্দির গ্রামের মহিলাদের নিয়ে শুক্রবার ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির করছেন তাঁরা। ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডস সংক্রান্ত যাবতীয় ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করার জন্য এই আয়োজন।


সদ্য ঋতুমতীরাও যাতে সহজে স্যানিটারি প্যাড পেতে পারে, তার জন্য গ্রামের স্কুলে বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন আর ব্যবহৃত প্যাড ডিসপোজাল মেশিন (দহন যন্ত্র) বসানোর ব্যবস্থাও করেছেন তাঁরা। সেগুলি ইতিমধ্যেই স্কুলে পৌঁছে গিয়েছে। স্বাস্থ্য শিবিরের পাশাপাশি সপ্তর্ষিরা গ্রামে পৌঁছে দেবেন নতুন কম্বল, নতুন চাদর, নতুন টুপি (শিশুদের), নতুন গামছা আর ব্যবহারযোগ্য পুরোনো শীতবস্ত্র।


এত কিছুর ব্যবস্থা হল কী ভাবে? নভেম্বর-ডিসেম্বর, এই দু’মাস নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে পরিকল্পনা মতো সমস্ত জিনিস সংগ্রহ করেছেন এই তরুণ দল। ‘যাও গান ছেলে মেয়েদের হাত ধরো/ মন্ত্রণা দাও বলো বিদ্রোহ করো/ যাও গান বলে দাও আরও একবার/ পৃথিবীটা পাখি, গাছ, মানুষ সবার।’ থেকে থেকেই সপ্তর্ষির ফেসবুক পেজে ভেসে উঠেছে এমন বার্তা।


গ্রামে একটি মাত্র স্কুল, খাটুন্দি উচ্চ বিদ্যালয়। যেখানেই সব ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে। এই স্কুলের সব ছাত্রীদের নিয়ে স্কুলেই আয়োজন করা হয়েছে ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির। সেখানে তাঁদের ঋতুস্রাব চলাকালীন কী কী করণীয় ও কী কী নয় তা বোঝানো হবে। স্যানিটারি ন্যাপকিন কেন ব্যবহার করা উচিত, কী ভাবে ব্যবহার করা উচিত, ব্যবহার করার পর কী ভাবে সেগুলো বর্জন করা উচিত।


কেন হঠাৎ খাটুন্দি? সপ্তর্ষির জবাব, ‘এই গ্রামের স্তন্যপান করে বড় হয়েছি আমি। এই শীতে গ্রামের মানুষদের কাছে সামান্য উষ্ণতা পৌঁছে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য। এই গ্রামে থাকেন মূলত বাগদী, দাস, কুমোর, ঘরামি, ধীবর, ভাগচাষিরা। সংসারে অভাব থাকলেও আন্তরিকতার দিক থেকে শহরের বিত্তশালীদের থেকে তাঁরা হাজার গুণ ধনী। বছরের শুরুটা তাঁদের নিয়েই এ বার হবে, পালন করব আমরা একঝাঁক কলেজে পড়া বা সদ্য কলেজ পাশ হওয়া তরুণ-তরুণীরা।’


শীতের প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়ার পাশাপাশি স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন দেওয়ার চিন্তা এল কেন? ওঁরা বলেন, ‘গ্রামের মহিলা ও তাঁদের কন্যাসন্তানদের মধ্যে ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব চিরকালের।


ঋতুস্রাব চলাকালীন তাঁরা সাধারণত ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো, কয়লার গুঁড়ো, বালি ব্যবহার করেন। যা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জননতন্ত্র ও রেচনতন্ত্র। এর থেকে ক্যানসার, বিষাক্ত ঘা, বন্ধ্যাত্ব থেকে মৃত্যু অবধি হতে পারে। এর মূলে সচেতনতার অভাব ও কুসংস্কার। গ্রামের ঋতুমতী বোনদের জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি ছিল


এই সময়ের


সৌমিত্র ঘোষ  বালি





 
Like
Comment
 

Total 0 comments


Add Comment
 
Related Post
Random Post