কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ
8 August 2018 at 12:24 AM
(কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ)

মহাভারতে বর্ণিত আছে অর্জুন যখন দ্রোণাচার্যের আশ্রমে ছিলেন । তখন তিনি অস্ত্র শিক্ষায় অনুশীলন করছিলেন । একবার তিনি রাতে খাচ্ছিলেন হঠাৎ দমকা হাওয়াতে প্রদীপটি নিভে গেল । তবুও অর্জুন খাওয়া বন্ধ করল না সে অন্ধকারে খেতে লাগল । অর্জুন ভাবল, আমার এত ক্ষিদা লেগেছে যে অন্ধকার হওয়া সত্ত্বেও আমি খাওয়া বন্ধ করি নাই ঠিকই মুখের মধ্যে খাবার চলে যাচ্ছে, তাহলে আমি কেন রাতের অন্ধকারে অস্ত্র শিক্ষা অনুশীলন করতে পারব না । এরপর থেকে অর্জুন রাতের অন্ধকারে অনুশীলন শুরু করছে, এমনকি সে শব্দ শুনেই লক্ষ্...যভেদ করা শুরু করল । এভাবে অর্জুন নিদ্রাকে জয় করল । তাছাড়া শ্রীকৃষ্ণের বন্ধুত্ব লাভের ফলে অর্জুন অজ্ঞনতাকে দূর করতে পেরেছেন । কারন অর্জুন এক মুহূর্তের জন্যেও কৃষ্ণকে ভুলে থাকতে পারতেন না, শয়নে জাগরনে সবসময় কৃষ্ণ চিন্তায় মগ্ন থাকতেন । চৈতন্য চরিতামৃতে বলা হয়েছে, “কৃষ্ণ সূর্যসম মায়া অন্ধকার । যাহা কৃষ্ণ তাহা নাহি মায়ার অধিকার”। এখানে মায়াকে অন্ধকারের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা অজ্ঞনতাকে বুঝায় আর কৃষ্ণকে সূর্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে । যেখানে সূর্য বা কৃষ্ণ থাকবে সেখানে মায়া বা অন্ধকার বা অজ্ঞানতা দূর হয়ে যাবে । যে ব্যক্তি সবসময় কৃষ্ণভাবনায় থাকবে আপনাআপনি তাঁর অজ্ঞনতা দূর হয়ে যাবে । তাই আমরা যদি নিদ্রা আর অজ্ঞানতাকে জয় করতে চাই তাহলে কৃষ্ণের শরণাপন্ন হতে হবে, কৃষ্ণভক্ত হতে হবে, ঠিক অর্জুনের মতো । তাই আমরা যদি গুড়াকেশ হতে চাই তাহলে আমাদের অর্জুনের পদাঙ্ক অনুসরন করতে হবে । আমরা যদি কৃষ্ণভাবনায় ভাবিত হই তাহলে আমরা এই অজ্ঞানতাকে জয় করতে পারব । সেজন্যে আমাদের প্রতিদিন গীতা পড়া উচিত আর কৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভ করা উচিত, আর কৃষ্ণের কৃপায় আমরাও নিদ্রা আর অজ্ঞানতাকে জয় করতে পারব ।।







 
Like
Comment
 

Total 0 comments


Add Comment
 
Related Post
Random Post