নারী
14 December 2018 at 5:54 PM
(নারী)

মেয়েটা সেদিন অনেক সেজেছিল, কলেজে অনুষ্ঠান ছিল, শাড়ী পরেছিল মেয়েটা, বাড়ির সবাই অনেকটা বড় ধরণের হাসি মুখ করে বলেছিল, বউয়ের মত লাগছিল মেয়েটাকে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভালোবাসার মানুষের দেয়া ফুলের মালা চুলের খোপায় গেঁথে নিয়েছিল। রাস্তার সবাই অনেকটা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মেয়েটার দিকে।... কাজল কালো চোখ, মিষ্টি ঠোটের হাসি, লাল পেড়ে শাড়ী, হাতে কাচের চুড়ির আওয়াজ, অন্যরকম সাজে সাজিয়ে দিয়েছিল মেয়েটাকে। কলেজের সবাইও থতমত খেয়ে গিয়েছিল। অনেকটা আনন্দে কেটেছিল দিনটা মেয়েটার। অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে রাত গড়িয়ে গিয়েছিল অনেকটা। ভাই আর বাবার কল রিসিভ করে একটু সময়ের মধ্যে আসছি বলেই রওনা দিল মেয়েটা। কিছুক্ষণ পর অনুভব করল কেউ তার পিছনে আসছে। একা রাতে হেটে চলছিল মেয়েটা, পিছনে তাকিয়ে কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলনা মেয়েটা। আলোর একটু দেখা মেলাতেই তার মাঝে কারো ছায়া দেখতে পেয়ে একটু চমকে গেল মেয়েটা। কেউ এসে হুট করে তার হাত আর মুখ চেপে ধরল। না একজন না, সাথে আরও কয়েকজন আছে হয়তো, মেয়েটা ঠিক বুঝে উঠতে উঠতেই হুট করে কিছু একটা দিয়ে মুখ চেপে ধরল কেউ। যখন জ্ঞান ফিরল কেউ একজন তার শাড়ী ধরে টানছে, একটু পর বুঝতে পারল তার শাড়ী খুলে ফেলা হচ্ছে, কিছু বুঝে উঠতে না পেরেই চিৎকার করে উঠল মেয়েটা। শক্ত হাতের শক্ত চাপে মুখ বন্ধ করে দেয়া হল মেয়েটার, শরীরটা যেন কেউ খুড়ে খাচ্ছে মেয়েটার। এই যন্ত্রনা চলার পর লোকটা চলে গেল, তার একটু পরেই আরেকজন এসে ঠিক একই কাজে লিপ্ত হলো মেয়েটার সাথে, চোখে আর কাজল নেই, জলে মুছে গেছে মেয়েটার। ঠোটে আর হাসি নেই, কোণায় ফেটে রক্ত বের হয়ে গিয়েছে। পরপর নয় জন অচেনা লোকের দেয়া যন্ত্রণাতে মেয়েটার রক্তাক্ত হাত পা কেপে উঠছিল। তাদের উপভোগ শেষে রেহাই পেল মেয়েটা। আবার জ্ঞান হারালো মেয়েটা। তারপর যখন জ্ঞান ফিরল মেয়েটার, তখন কেউ কিছু একটা জোর করে মুখে খায়িয়ে দিচ্ছিল মেয়েটাকে। শরীর ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরল। ওদিকে মেয়েটার ভাই আর বাবা পাগলের মত খুজে চলেছে মেয়েটাকে। মা চোখের জল আর উপরে বসে থাকা তার কাছে কতটা আকুতি মিনতি করে যাচ্ছে তা বলাটা অনেক বেশি কষ্টকর। পরের দিন সকালে ড্রেনের মাঝে শাড়ী কোনোরকমে প্যাঁচানো অবস্থায় মেয়েটাকে পাওয়া যায়। ভাইটা তার বোনের চেহারা দেখেও যেন না চেনার অভিনয় করে যাচ্ছে, নিজেকে বোঝাতে চাচ্ছে এ তার বোন হতে পারেনা। কিভাবে হতে পারে? তার বোন তো তাকে দেখলেই ভাইয়া বলে ডাক দেয়, সেই ডাক কতটা স্নেহে ঘেরা, বাবাটা একদম চুপ হয়ে গেছে, পরিবারের কাছে আজ অনেক সান্তনা দেয়ার মানুষ আছে। নেই শুধু তাদের মেয়েটা। . লেখক: অমিত……………… ফ্যানপোস্ট লিখালিখি







 
Like
Comment
 

Total 0 comments


Add Comment
 
Related Post
(0 comments)

(0 comments)

(0 comments)

(0 comments)

(0 comments)

(0 comments)

(0 comments)

Random Post